Annapurna Yojana

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা! এবার কি সবাই টাকা পাবে? কি বলছে আদালত?

Annapurna High Court Case: নমস্কার বন্ধুরা অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেবো! অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ হচ্ছে যোগ্য ব্যক্তিরা অন্নপূর্ণ যোজনার টাকা পায়নি, কিন্তু অযোগ্য ব্যক্তিরা টাকা পেয়েছে। যোগ্য ব্যক্তিদের আবেদন রিজেক্ট করা হচ্ছে এবং এডিট করার বা ভুল সংশোধন করার অপশনও দেয়া হচ্ছে না। এই সমস্ত কিছুর প্রেক্ষিতে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা করা হয়েছে। মানুষের স্বার্থে হাইকোর্ট কি রায় দিয়েছে? সমস্ত কিছু এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করছি ।

মামলার কারন ও হাইকোর্টের রায়

অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির ৩০০০ টাকা পয়লা জুলাই থেকে দেওয়া শুরু হয়েছিল।১.২০ কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক একাউন্টে ৩০০০ টাকা করে অনুদান পাঠানো হয়েছিল। যার মধ্যে বহু প্রকৃত আভাবী মানুষই টাকা পাননি। অর্থাৎ যারা যোগ্য তারা অনেকে টাকা পাননি। অথচ সরকারি কর্মচারী পুরুষ এবং বিত্তবানদের স্ত্রীদের একাউন্টে টাকাটা ঢুকেছে। মানে স্বামী সরকারি চাকরি করে বা ইনকাম ট্যাক্স দেয় তাদের বউয়েরা কিন্তু টাকাটা পেয়েছে। কিন্তু যারা যোগ্য সেই সমস্ত মহিলারা বঞ্চিত হয়েছেন তারা টাকা পাননি।

তাহলে এই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যোগ্যদের যেহেতু বঞ্চনা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা মানে PIL ফাইল করা হয়েছে। আর এখন আদালত থেকে রাজ্য সরকারকে ২১শে জুলাই এর মধ্যে সম্পূর্ণ জবাবদিহি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে হাইকোর্ট, ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট সাবমিট করার আদেশ দিয়েছে রাজ্য সরকারকে।

কাদের টাকাটা পাওয়া উচিত?

  • দিন আনা দিন খাওয়া গরীব মানুষ ও মহিলারা।
  • SIR এ যাদের নাম রয়েছে, এবং
  • যাদের মাথার উপরে পাকা ছাদ নেই।

এই সমস্ত মানুষজন হচ্ছে আসল উপভোক্তা। কিন্তু অনিয়ম দেখা গেছে, অনেক অযোগ্য মহিলারাও অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পেয়েছেন।

কাদের টাকাটা পাওয়া উচিত নয়?

  • তিনটের বেশি বিলাসবহুল পাকা বাড়ির মালিক।
  • আয়কর প্রদানকারীর বউয়েরা মানে যারা ইনকাম ট্যাক্স ফাইল করে। এবং
  • যাদের স্বামীদের সরকারি চাকরি আছে সেই সমস্ত মানুষজনের স্ত্রী।
  • ভুল ভেরিফিকেশনের জড়ে পুরুষদের একাউন্টেও টাকা গেছে।

এর খানিকটা হলেও সত্যি। এবার অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টে PIL ফাইল করা হয়েছে জনস্বার্থে মামলা করা হয়েছে।

কারা মামলাটা করেছে?

পশ্চিমবঙ্গ ক্ষেত মজুর সমিতির পক্ষ থেকে জনস্বার্থে মামলা করেছে। তাদের মূল অভিযোগ গরীব মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তা ও সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বেআইনীভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যা তাদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। প্রকৃত উপভোক্তারা অন্নপূর্ণা ভান্ডার ও রেশন উভয় থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাইকোর্টের রায়

এই সমস্ত কিছু শুনে আদালত বা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ২১শে জুলাই ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে। বিচারপতি ছিলেন পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় এবং বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী। বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে একটা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে। অর্থাৎ একটা রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। যেই রিপোর্ট ২১শে জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে আদালতে পেশ করতে হবে।

এই রিপোর্টে থাকতে হবে-

  • SIR তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের বর্তমান অবস্থা কি? এবং
  • কেন যোগ্য মানুষরা রেশন কার্ড বা অন্নপূর্ণা যোজনার মত সুবিধা পাচ্ছেন না।
  • কেন যোগ্য মহিলারা টাকা পাননি?

সরকারের দাবী

সরকারের পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট জেনারেল সুরজিত নাথ মিত্র, বলেছেন যাদের নাম বাদ গেছে তারা ট্রাইবুনালে আবেদন করলে কোন সমস্যা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী তারা রেশন কার্ড এবং অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পেয়েছেন।

আর বাস্তব চিত্র কি?

কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বা গ্রাউন্ড রিপোর্ট কি বলছে? বহু মহিলা অভিযোগ করেছেন ট্রাইবুনালে আবেদন করে, সমস্ত বৈধ তথ্য ও নথিপত্র জমা দেয়ার পরেও তাদের একাউন্টে কোন টাকা ঢুকছে না। সরকারি দাবির সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশনের অভাব। সঠিক তথ্য যাচাই না করে তড়িঘড়ি প্রথম কিস্তির টাকা পাঠানোই অনিয়মের মূল কারণ।

তাহলে জুলাই মাসে অন্নপূর্ণা প্রথম কিস্তি ৩০০০ টাকা পাঠানো হয়েছিল। তাড়াতাড়ি করে কোন ভেরিফিকেশন ঠিকভাবে না করে ওই টাকাটা পাঠানোই হচ্ছে গাফিলতি। ব্লক বা ভিডিও স্তরের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেকের বাড়িতে ভেরিফিকেশন করতে যায়নি। টেলিফনিক যাচাই অনুপস্থিত, মানে ফোন কলের মাধ্যমে যে ভেরিফিকেশন হওয়ার কথা ছিল সেটাও ঠিকঠাকভাবে হয়নি। যার ফলে অযোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি টাকার সুযোগ সুবিধা ভোগটা করেছেন।


ডিজিটাল বিভ্রান্তি

অন্নপূর্ণা socialregistry.wb.gov.in এই পোর্টালে বিভিন্ন সময় সার্ভারের সমস্যা বা অন্য যে কোন সমস্যা ছিল। কোন ট্রান্সপারেন্সি বা স্বচ্ছতা ছিল না। যার জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে একটা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আবেদনকারীরা ফর্মের বর্তমান স্ট্যাটাস Approved, Rejected এরকম কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। আবার কখনো Rejected দেখাচ্ছে, তার কিছুক্ষণ পরে Under Enquiry দেখাচ্ছে। এরকম ভুলভাল রয়েছে। স্ট্যাটাস রিজেক্টেড দেখালেও নির্দিষ্ট করে তার কারন দেওয়া হয়নি। এছাড়া, অনলাইন পোর্টালে ভুল সংশোধনের সুযোগ নেই।

মানুষের মনে ক্ষোভ বাড়ছে কেন?

মানুষ সরকারের কাছ থেকে বা বিডিও অফিসে, মিউনিসিপালিটি গিয়ে কোন সুস্পষ্ট উত্তর পাচ্ছে না। কি কারণে ফর্ম রিজেক্ট হয়েছে? বা তার টাকাটা ঢুকছে না কেন? এর কোন স্পষ্ট জবাব মেলেনি। যার জন্য সাধারণ জনগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা জনস্বার্থে মামলা করেছে। কোন কারণ দেখানো ছাড়াই, অনলাইন পোর্টালে স্ট্যাটাস ফর্ম বাতিল দেখানো হয়েছে।

যার ফোলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ বিডিও অফিস বা মিউনিসিপালিটি ভিড় করেছে, সেখানে দিনের পর দিন মানুষজন গিয়ে খোঁজ নিয়েছে। কিন্তু, সরকারি আধিকারিকরা উদাসীন ব্যবহার, সঠিকভাবে জবাব না দেওয়া বা তাদের কাছে কোন তথ্য না থাকায় মানুষের মনে ক্ষোভ বেড়েছে।

এছাড়া এত বড় প্রকল্প, তার জন্য আলাদা করে কোন হেল্পলাইন নাম্বার চালু করা হয়নি। এত কিছু মিলিয়ে মানুষের মনে যে ক্ষোভ রয়েছে সেই জন্যই জনস্বার্থে মামলাটা করা হয়েছে।

বিস্তারিত ভিডিও দেখুন আমাদের WB Tathya ইউটিউব চ্যানেলে-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button