Krishak Bandhu Taka: চাষবাসের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে অনেক সময় নানানরকম ক্ষয়ক্ষতি হয়। তখন কৃষকদের আর্থিক সুবিধা এবং সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে নানান রকম বীমার কথা ঘোষণা করা হয়।
কৃষকদেরকে আর্থিক সুরক্ষা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ২০২৬ সালের খারিফ মরসুমে প্রধানমন্ত্রীর ফসল বীমা যোজনা রয়েছে। যাকে সংক্ষেপে বলা হয় PMFBY।
এই যোজনার আওতায় বলা হয় যে, যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা প্রতিকূল আবহাওয়া বা পোকামাকড় ও রোগের কারণে যদি নির্দিষ্ট ফসলের ক্ষতি হয়, সেক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
এই আর্থিক সুবিধাটি DBT-র মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা পরবে। এক্ষেত্রে বন্যা ভাব প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হলে, নিয়ম নীতি মেনে ক্ষয়ক্ষতি কতখানি হয়েছে সেটা খতিয়ে দেখার পর ক্ষতিপূরণের দাবির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
কোন জেলায় বন্যা হলেই প্রত্যেক কৃষক এই ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন, এমনটা কিন্তু ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। যেকোনো এলাকার ফসল, বীমা ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করে তার ভিত্তিতে দাবি নির্ধারিত হয়।
কোন কোন জেলায় কৃষকদের বীমা করা আছে?
২০২৬ খারিফ মরসুমে বীমার আওতায় বেশ কিছু জেলা রয়েছে। হুগলি, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ইত্যাদি জেলাগুলি বীমার আওতায় রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় ৭.২৩ লাখ কৃষক, পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় ৪.৭৩ লাখ কৃষক ও হুগলিতে প্রায় ১.৬৮ লাখ কৃষক এবং প্রায় ৪২,০০০ কৃষক ঝাড়গ্রামে বীমা করেছেন বলে তথ্যে উঠে এসেছে।
তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে অবশ্যই ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হবে।
কৃষকদের কত করে প্রিমিয়াম দিতে হয়?
নির্দিষ্ট জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষকদের প্রিমিয়ামের অংশ নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভাবে প্রিমিয়াম বলা সম্ভব নয়! যার যেমন জমি, তার সেরকম প্রিমিয়ামের অংশ। তবে কৃষকদের জন্য প্রদত্ত সেই প্রিমিয়ামের অংশ খুব কমই রাখা হয়, বাকি অংশটা সরকার দেয়।
যদি জমির পরিমাণ এক হেক্টর অবধি হয়, তাহলে কৃষকের নিজের প্রতি ও প্রিমিয়াম মাত্র এক টাকা।
এক থেকে দুই হেক্টর এর ক্ষেত্রে কৃষক প্রতি একর পিছু ১০০ টাকা দেবে।
তবে এই প্রিমিয়ামের প্রকৃত অংশ জানতে অবশ্যই সরকারি PMFBY পোর্টালের প্রিমিয়াম ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা উচিত।
বন্যায় যে সকল কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষয়ক্ষতি কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করতে, প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করবার জন্য মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা, ব্লক ও মৌজা ভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করার পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি ও ব্যবহার করা হয়।
ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করার পর কোন এলাকা ও কোন কৃষক ক্ষতিপূরণের আওতায় পড়বেন তা দেখা হয়।
ব্যাঙ্ক থেকে কৃষি ঋণ নেওয়া কৃষকদের জন্য সময়সীমা: ব্যাঙ্ক বা সমবায় থেকে যে সকল কৃষকরা ঋণ নিয়েছেন, তাদের ফসল বীমার নথিভুক্তির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে আগামী ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
কৃষকরা অবশ্যই ব্যাংক বা সমবায় প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে বীমা সংক্রান্ত বিষয়টি যাচাই করে নেবেন এই সময়ের মধ্যে।
ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যাঙ্কে কীভাবে আসবে?
ক্ষতিপূরণের টাকা DBT-র মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে। ব্যাঙ্ক একাউন্টের তথ্য তাই সঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব কৃষকরা কি ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা পাবেন?
বন্যাতে ক্ষয়ক্ষতি হলে বা ফসল বীমা করা থাকলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সবাই পাবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
কোন কোন ফসল, কোন এলাকা ও কি ধরনের ক্ষতি হয়েছে বীমার শর্ত অনুযায়ী সেগুলি দেখা হবে। শর্ত অনুযায়ী দাবী গ্রহণযোগ্য হলে তবেই ক্ষতিপূরণ মিলবে।
নির্দিষ্ট জেলা, ব্লক বা মৌজার কৃষকরা কত টাকা পাবেন সেই সংক্রান্ত চূড়ান্ত তালিকা দাবি খতিয়ে দেখার পরেই জানা যাবে।
কীভাবে নিজের বীমার তথ্য যাচাই করবেন?
PMFBY সরকারি পোর্টালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আবেদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দেখতে পারবেন।
প্রয়োজনে তারা ব্যাংক, CSC, PACS বা অনুমোদিত নথিভুক্ত করণ কেন্দ্রেও যোগাযোগ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ কৃষি দপ্তর এই মাধ্যমগুলির মাধ্যমেও কৃষকদের নথিভুক্তকরণের কথা বলেছেন।
২০২৬ খারিফ মরসুমে ফসল বীমার আওতায় থাকা কৃষকদের জন্য, এখন তাদের ক্ষতিগ্রস্ত জমির সঠিক মূল্যায়ন এবং দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া করায় মূল বিষয়। এক্ষেত্রে কোন ব্লক বা মৌজার কৃষক ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন এবং কত টাকা পাবেন তা একমাত্র চূড়ান্ত সরকারি তথ্য এলেই জানা যাবে।












