Health Insurance: বর্তমান যুগে হেল্থ ইন্স্যুরেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যে হারে মানুষের মধ্যে রোগ ব্যাধি বাড়ছে যে একটি জটিল রোগেই মানুষের সমস্ত সঞ্চয় ভেঙে যায় , সে ক্ষেত্রে আগাম মানুষের হেল্থ ইন্স্যুরেন্স করা উচিত। পরিবারের জন্য হেলথ ইন্সুরেন্স করতে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন-
- পলিসি কেনার আগে ভালো করে দেখবেন কভারেজের বিষয়টি।
- প্রিমিয়াম ওয়েটিং পিরিয়ড।
Family Health Insurance কী?
ফ্যামিলি হেলথ ইন্স্যুরেন্স হল এমন একটি স্বাস্থ্য বিমা, যেখানে একটি পলিসির অধীনে পরিবারের একাধিক সদস্য চিকিৎসা পাবেন। স্বামী, স্ত্রী, সন্তান থেকে শুরু করে কিছু কিছু পলিসিতে বাবা-মাকেও এই বিমার আওতায় নিয়ে আসা হয়।
ফ্যামিলি হেল্থ ইন্স্যুরেন্সের উদ্দেশ্য হল: হঠাৎ কোন চিকিৎসা জনিত সমস্যা হলে আর্থিক ঝুঁকি কমানো। হাসপাতালে ভর্তি, অস্ত্রোপচার, চিকিৎসকের পরামর্শ, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসার পলিসির শর্ত অনুযায়ী এক্ষেত্রে ক্লেম পাওয়া যায়।
Family Floater Insurance কীভাবে কাজ করে?
ফ্যামিলি ফ্লোটার ইন্স্যুরেন্স হল ফ্যামিলি হেলথ ইন্স্যুরেন্সের একটি জনপ্রিয় ধরণ। এখানে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা করে বিমার টাকা নির্ধারিত হয় না, বরং একটি পরিবারের জন্যই বিমার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়! যা পরিবারের সব সদস্যর মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যায়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি পরিবারের ৫ লক্ষ টাকার ফ্যামিলি ফ্লোটার ইন্স্যুরেন্স আছে, পরিবারের একজন সদস্য চিকিৎসায় যদি ৩ লক্ষ টাকা খরচ হয় তাহলে বাকি সদস্যদের চিকিৎসা খরচা বাবদ ২ লক্ষ টাকা খরচা হবে।
পরিবারের জন্য কত টাকার হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ করা প্রয়োজন?
পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, বয়স, তাদের স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি ও বসবাসের এলাকার হাসপাতাল খরচার উপর নির্ভর করে হেল্থ ইন্স্যুরেন্সের কভারেজ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
যদি পরিবার ছোট হয় সে ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকার কভারেজ করা যেতে পারে। বর্তমানে যে হারে চিকিৎসার খরচ বাড়ছে, সে ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা কভারেজ বা তার বেশি টাকা কভারেজের জন্য ভাবা যেতে পারে।
এছাড়া ও আর্থিক সুরক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পাশাপাশি সুপার টপ আপ পলিসি নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি সীমার পর অতিরিক্ত চিকিৎসার খরচের সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়।
হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কীভাবে হিসাব করা হয়?
হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম হল বিমার সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রত্যেক মাসে যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয় বা কয়েক মাস অন্তর অন্তর যে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয় সেই টাকাকে বলা হয়।
বিমার প্রিমিয়ামের পরিমাণ কয়েকটি টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে:
- বয়সের প্রভাব: পরিবারের সদস্যদের বয়স যত বেশি হবে, তত প্রিমিয়াম বেশি হবে। কারণ বয়স বাড়লে অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়ে।
- পরিবারের সদস্য সংখ্যা: পলিসিতে যত বেশি সদস্য থাকবে, প্রিমিয়ামের হিসেবও সেই অনুযায়ী হবে।
- কভারেজ অ্যামাউন্ট: ৫ লক্ষ টাকার পরিবর্তে যদি ১০ লক্ষ বা ১৫ লক্ষ টাকার কভার নেওয়া হয় তাহলে প্রিমিয়াম বেশি হয়।
- মেডিকেল হিস্ট্রি: পরিবারের কোনো সদস্যর আগে থেকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোন অসুস্থতা থাকলে বিমা সংস্থা সেই বিষয়টি বিবেচনা করে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৫ এর ২২ শে সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত ও ফ্যামিলি ফ্লোটার হেলথ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়ামের ওপর GST ছাড় দেওয়া হয়েছে! ফলে পলিসি কেনার ক্ষেত্রে খরচ কমেছে।
হেলথ ইন্স্যুরেন্স ওয়েটিং পিরিয়ড কী?
হেলথ ইন্স্যুরেন্স করার পরেই কিন্তু সব ধরনের রোগের চিকিৎসার খরচ পাওয়া যায় না। পলিসি চালু করার পর নির্দিষ্ট কিছু রোগের চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, একে বলা হয় ওয়েটিং পিরিয়ড।
ওয়েটিং পিরিয়ড সাধারণত তিন ধরনের দেখা যায়।
- Initial Waiting Period: পলিসি শুরু হওয়ার প্রথম ৩০ দিন বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সাধারণত অসুস্থতা চিকিৎসার খরচ পাওয়া যায় না। দুর্ঘটনা জনিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কিন্তু প্রযোজ্য নয়।
- Pre Existing Disease Waiting Period: পলিসি কেনার আগে যদি কোন রোগ থাকে তাহলে সেই রোগের চিকিৎসার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
- Special Disease Waiting Period: হার্নিয়া, ছানি অপারেশন থেকে শুরু করে কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্র পচারের ক্ষেত্রে বা রোগের ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।
IRDAI -2024 সালের নিয়ম অনুযায়ী Pre Existing Disease এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত ওয়েটিং পিরিয়ড থাকতে পারে। তবে পলিসি ভেদে সেটা আলাদা হয়।
Cashless Hospital কীভাবে কাজ করে?
Cashless Hospital হল স্বাস্থ্য বিমার এমন একটি সুবিধা যেখানে বিমার আওতাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা করালে রোগীকে চিকিৎসার জন্য নিজের পকেট থেকে কোন টাকা দিতে হয় না।
বিমা সংস্থা বা তাদের TPA অর্থাৎ থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর চিকিৎসার খরচ সরাসরি হাসপাতালে মিটিয়ে দেয়।
এই সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রথমে বিমা সংস্থার নেটওয়ার্ক হসপিটালে ভর্তি হতে হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিমা সংস্থার কাছে ক্যাশলেস অথরাইজেশন এর জন্য আবেদন করলে পলিসি শর্ত অনুযায়ী চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে দেয় বিমা সংস্থা। তবে বিমার আওতায় যে খরচ নেই সেই খরচ রোগীকেই দিতে হয়।
Deductible ও Co-Payment কী?
স্বাস্থ্য বিমা কেনার আগে উপরে উক্ত বিষয় দুটি অর্থাৎ Deductible ও Co Payment ভালোমতো বুঝে নিতে হবে।
Deductible: চিকিৎসার খরচের জন্য যে নির্দিষ্ট অংশ প্রথমে পলিসি হোল্ডারকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয় তাকেই Deductible বলা হয়। এর পরবর্তী যোগ্য খরচ বিমা সংস্থা পলিসির শর্ত অনুযায়ী দেয়।
Co-Payment: চিকিৎসায় যে মোট খরচ হয় তার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ রোগীকে নিজে দিতে হয়। স্বাস্থ্য বিমা পলিসিতে যদি ১০ শতাংশ কো পেমেন্ট করার কথা বলা হয়, তার অর্থ হল ১ লক্ষ টাকার যোগ্য চিকিৎসার খরচের মধ্যে ১০ হাজার টাকা রোগীকে দিতে হবে ও বাকি ৯০ হাজার টাকা বিমা সংস্থা দেবে।
হেলথ ইন্স্যুরেন্স পলিসি কেনার আগে ৭ টি বিষয় যাচাই করুন:
পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য বিমা কেনার আগে অবশ্যই নীচের সাতটি বিষয় যাচাই করে নেওয়া উচিত।
- Sum Insured: Sum Insured অর্থাৎ পরিবারের চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত কভারেজ রয়েছে কিনা।
- Network Hospital: আপনার বাড়ির কাছাকাছি ভালো হাসপাতাল বিমা সংস্থার Network Hospital এর তালিকাতে আছে কিনা যাচাই করুন।
- Waiting Period: আগে থেকে কোন রোগ থাকলে সেই রোগের চিকিৎসা করার জন্য কত বছর অপেক্ষা করতে হবে সেই সময়টা জেনে নিন।
- Room Rent Limit: হাসপাতালে থাকার সময় ঘর ভাড়ার ওপর কোনরকম সীমাবদ্ধতা রয়েছে কিনা দেখুন।
- Co Payment ও Deductible: চিকিৎসার ক্ষেত্রে কত শতাংশ খরচ আপনাকে দিতে হবে সেটা আগে জেনে নিন।
- Exclusions: কোন কোন রোগের চিকিৎসা স্বাস্থ্য বিমা পরিষেবা পলিসির আওতায় নেই, সেটা ভালোভাবে জেনে নিন।
- Claim Settlement Process: বিমা সংস্থার ক্ষেত্রে ক্লেম করার পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় নথি ও ক্যাশলেস সুবিধার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিন।
হেল্থ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কমানোর উপায় কী?
স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কম করার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে।
- প্রয়োজন অনুযায়ী কভারেজ অ্যামাউন্ট নিন।
- একাধিক বিমা সংস্থার প্রিমিয়াম ও সুবিধা দেখে তারপর বিবেচনা করে স্বাস্থ্য বিমা করুন।
- দীর্ঘমেয়াদি পলিসির ক্ষেত্রে কোন ছাড় পাওয়া যায় কিনা দেখুন।
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাড অন বা অতিরিক্ত সুবিধা এগিয়ে চলুন।
- পলিসি নিয়মিত রিনিউ করুন, যাতে ওয়েটিং পিরিয়ডের সুবিধা নষ্ট হয়ে না যায়।
- সুপার টপ-আপ পলিসির মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে অতিরিক্ত কভারেজের সুযোগ নিন।
উপরি উক্ত বিশদ আলোচনার পর নীচে এক নজরে কয়েকটি বিষয় আলোচনা করে দিই:
ফ্যামিলি ফ্লোটার পলিসি কী?
ফ্যামিলি ফ্লোটার পলিসি হল এমন একটি স্বাস্থ্য বীমা যেখানে পরিবারের একাধিক সদস্য একটি নির্দিষ্ট বিমা অঙ্ক ভাগ করে সুবিধা পেয়ে থাকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে।
পরিবারের জন্য আলাদা পলিসি ভালো নাকি ফ্লোটার পলিসি?
ছোট এবং তুলনামূলক কম বয়সি সদস্যদের ক্ষেত্রে ফ্যামিলি ফ্লোটার সুবিধাজনক হতে পারে। তবে পরিবারের সদস্যদের বয়সের পার্থক্য যদি বেশি হয় অথবা বাবা মায়ের বয়স বেশি হলে আলাদা পলিসি নেওয়া যেতে পারে।
প্রিমিয়াম কি প্রতি বছরেই বাড়ে?
হ্যাঁ, বিমার প্রিমিয়াম প্রতিবছরই বাড়ে। সাধারণত বিমা করা ব্যক্তিদের বয়সের পরিবর্তন, বিমা সংস্থার মূল্য নির্ধারণ, চিকিৎসার খরচ ও পলিসের শর্তের পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে প্রিমিয়াম বৃদ্ধি হয়।
ক্যাশলেস ট্রিটমেন্ট কীভাবে পাওয়া যায়?
বিমা সংস্থার নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত থাকা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রয়োজনীয় বিমার নথি জমা দিতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিমা সংস্থার কাছে অনুমোদনের আবেদন করে। এরপর আবেদন যদি অনুমোদিত হয় তাহলে পলিসি নিয়ম অনুযায়ী বিমা সংস্থা সরাসরি বিল মিটিয়ে দেয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পরিবারের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে একটি হেল্থ ইন্স্যুরেন্স অবশ্যই করা উচিত। হেল্থ ইন্স্যুরেন্স অনেকেই শুধুমাত্র কম প্রিমিয়াম দেখে করে ফেলেন কিন্তু সেটা না করে উপরই উক্ত বিষয়গুলি যাচাই করে তারপর বিমা করা হল বুদ্ধিমানের কাজ।












