Annapurna Bhandar October Payment: যারা গত মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন, তারা কিন্তু এই মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নাও পেতে পারেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকেছে মানেই যে পুজোর মাসেও টাকা ঢুকবে এমনটা ধরে নেওয়া কিন্তু ঠিক নয়। কারণ অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপকদের তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে।
এই যাচাই প্রক্রিয়ার পর যদি কেউ অযোগ্য রূপে প্রমাণিত হন, তাহলে তার নাম অন্নপূর্ণা যোজনা তালিকা থেকে বাদ যাবে। রাজ্যের মন্ত্রী মালতি রাভা রায় এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন অনেক আগেই। মালতি রাভা রায় বলেছেন যে
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া শুরু হলেও সব আবেদনকারীর যাচাই প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয় নি। তার কথায়, ১৭ ই সেপ্টেম্বর অনেকেই অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা পেয়েছেন। এখনও অবধি বিষয়টা নিয়ে এনকোয়ারি চলছে। পরবর্তীতে যদি দেখা যায় তারা অযোগ্য তাহলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা থেকে তাদের নাম বাতিল হবে।
আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় বলেছেন, যারা নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য ও যাদের নথি যাচাই হচ্ছে তারা বঞ্চিত হবেন না। অক্টোবর মাসে কবে এই যোজনার টাকা ঢুকবে এই নিয়ে এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন তারিখ সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় নি।
গত ৩রা অক্টোবর শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় বলেন যে, ‘নথি যাচাই চলছে। যোগ্য সবাই অন্নপূর্ণার টাকা পাবেন। একজনকেও বঞ্চিত করবো না। ’
অর্থাৎ একবার টাকা পেলেই, কেউ সারা জীবন পাবে! এমনটা ধরে নেওয়ার কোন কারণ নেই। যাচাই প্রক্রিয়া চলতে চলতে যে কারো নাম বাদ হয়ে যেতে পারে তালিকা থেকে। আবার যারা যোগ্য,তারা যদি এখন টাকা নাও পান, তবু তাদের ভাগ্যের চাকা খুব শীঘ্রই খুলবে।
এই বক্তব্যের পর থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপকদের মধ্যে একটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সবাই ভাবছেন তাহলে গত মাসে টাকা পেলেও কি এবার কিছু মানুষ বাদ যেতে পারেন? বাদ গেলে কারা বাদ যাবেন এই নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
আসল ব্যাপারটা হলো এই যে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় নি। যারা প্রকল্পের যোগ্য নন তারাও টাকা পাচ্ছেন কিন্তু এরপর যখন যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে তখন যারা অযোগ্য, তাদের নাম প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ যাবে।
বিশেষত আবেদনের সময় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য, তথ্য গোপন বা নথির সঙ্গে আবেদন পত্রের কোন মিল নেই- এই জাতীয় ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। মন্ত্রী মালতি রাভা রায়ের বক্তব্য অনেক আবেদনকারী যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন, তারা আবেদন করার সময় তথ্য গোপন করছেন। সেই জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে এখন অন্নপূর্ণা যোজনার তথ্য যাচাই করা হবে।
প্রসঙ্গতি উল্লেখ্য অন্নপূর্ণা যোজনা অনুযায়ী ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা মাসে ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। যারা স্থায়ী রাজ্য সরকারি কর্মী, যারা নিয়মিত সরকারি বেতন পান, যারা আয়কর দেন তারা এই সুযোগ সুবিধার বাইরে থাকবেন।
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার কিস্তির টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়া শুরু হয়েছিল। ওই দিন অন্নপূর্ণা দিবস ঘোষণা করা হয় আর এই উপলক্ষে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলা উপকৃত হন অন্নপূর্ণা যোজনা পেয়ে। অর্থাৎ গত মাসে যারা টাকা পেয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার জন্য তীর্থের কাকের মতো অধীর অপেক্ষায় বসে আছেন।
রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আগে বলা হয়েছিল যে, অন্নপূর্ণার যাচাই প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পূর্ণ না হওয়া অবধি যোগ্য উপভোক্তাদের প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাই যদিও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত বলা হয়নি, যে অক্টোবরে কবে টাকা ঢুকবে? তবু বলা যায় যে ১০ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে টাকা ঢুকে যাবে।
সামনে দুর্গাপূজো হওয়ায় অনেকেই ইতিবাচক আস্থা রাখছেন যে টাকা খুব তাড়াতাড়ি ঢুকে যাবে। যদিও সরকারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এখনো পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
যারা এখনও পর্যন্ত একবারের জন্যও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পান নি, আবেদন প্রক্রিয়া যাদের আন্ডার ইনকয়ারি, আন্ডার প্রসেস কিংবা রিজেক্টটেড দেখাচ্ছে তাদের সমস্যা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।
ইতিপূর্বেই যোগ্য প্রাপকদের সমস্যার কথা রাজ্য আধিকারিকদের খুলে বলার জন্য রাজ্য সরকার সেবা সেতু ক্যাম্পের আয়োজন করেছেন। এই কারণে রাজ্য সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে ইতিবাচক ভূমিকা দেখছেন অনেকেই, আবার বহু মহিলা আবার অন্নপূর্ণা ভান্ডার না পেয়ে বিক্ষোভ করছেন।











