Senior Citizen Card: ৬০ বছর বয়স যাদের হয়ে গেছে, বা যাদের তার থেকেও বেশি বয়স তাদের জন্য রয়েছে সিনিয়র সিটিজেন কার্ড। এই কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকের থেকে একটু বেশি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে প্রায় ১৫.৪ কোটি প্রবীণ নাগরিক রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ কোটি মত মানুষের হাতে সিনিয়র সিটিজেন কার্ড রয়েছে। এই কার্ড থাকলে বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে সেটিকে দেখিয়ে সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানান রকম সুবিধা পাওয়া যায়।
৬০ বছর বয়স পেরোলেই কি সিনিয়র সিটিজেন কার্ড পাওয়া যাবে ? এই কার্ড থাকলে পেনশন চিকিৎসা ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা মেলে , কীভাবে আবেদন করবেন, এই কার্ড করতে প্রয়োজনীয় কী কী নথি লাগে- এই সকল বিষয়ে জানাতেই এই প্রতিবেদনটি লেখা।
কারা পাবেন Senior Citizen Card?
৬০ বছর বয়সের বা তার বেশি বয়সের যারা মানুষ তারা প্রবীণ নাগরিক হিসেবে এই কার্ড পাবেন।
সেই ব্যক্তি চাকরি করুন অথবা ব্যবসা অথবা রাজ্য সরকারের থেকে কোন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন, যদি তার ৬০ পেরিয়ে যায় বা তার ৬০ বছর বয়স হয়, তাহলে তিনি সিনিয়র সিটিজেন পাবেন।
এই কার্ডে কী কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে?
সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পের আওতায় একাধিক সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে রাজ্য ভেদে সুবিধা আলাদা আলাদা হতে পারে।
যাতায়াতের ক্ষেত্রে ছাড়
সিনিয়র সিটিজেনরা রাজ্যের সরকারি পরিবহন পরিষেবার ক্ষেত্রে ভাড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ছাড় পেয়ে থাকেন।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে সুবিধা
সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কিছু চিকিৎসা সংক্রান্ত ছাড় থাকে আবার কিছু বেসরকারি হাসপাতালেও প্রবীর নাগরিকদের জন্য বিশেষ কিছু ছাড় থাকে।
তবে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কিন্তু হাসপাতাল ভেদে আলাদা হয়ে থাকে।
সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম
প্রবীণ নাগরিকরা এই স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এটি একটি সঞ্চয় প্রকল্প। বিভিন্ন ব্যাংকেও সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় সিনিয়র সিটিজেনদের ফিক্সড ডিপোজিটের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুদ দেওয়া হয়। তবে ব্যাংক অনুপাতে সুদের পরিমাণটা নির্ভর করে।

PM Viksit Bharat Rozgar Yojana: যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা পাবেন ₹১৫,০০০, কারা আবেদন করতে পারবেন?
আয়করের ক্ষেত্রে ছাড়
একটা কথা সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে সিনিয়র সিটিজেন কার্ড থাকলেই আয় করার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় না।। আয়কর সংক্রান্ত বিষয়টা সেই ব্যক্তির বয়স এবং সেই সময়কার আয়কর আইনের উপর নির্ভর করে।
পুরনো আয়কর ব্যবস্থা তে যেমন প্রবীণ নাগরিকদের সাধারণ করদা তাদের তুলনায় বেশি বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট দিতে হত।
৮০ বছর বয়সী বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিদের সুপার সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে আলাদা শ্রেণীভুক্ত করা হয়। তাদের ক্ষেত্রে সীমা আরও বেশি প্রযোজ্য হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে ধারা ৮০ D ও আমানত থেকে পাওয়া সুদের ক্ষেত্রে ৮০TTBর অধীনে কর ছাড়ের সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট আয়কর আইনের নিয়ম নির্ধারিত সীমা মেনে চলতে হয়।
পেনশন, চিকিৎসার ছাড় কি সর্ব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
Senior Citizen Card থাকলেই যে পেনশন বা চিকিৎসা ক্ষেত্রে সুবিধা মিলবে এমনটা কিন্তু নয়, এই সুবিধা গুলো পেতে গেলে প্রকল্পের শর্ত পূরণ করতে হয়। কোথাও আবার আলাদা ভাবে আবেদন জমা দিতে হয়।
পেনশনের ক্ষেত্রে যেমন আবেদনকারীর বয়সের সাথে সাথে আয়, সামাজিক শ্রেণী বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও পরিবহনের সুবিধা ও রাজ্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ও নির্দিষ্ট প্রকল্পের ওপর এই নিয়মগুলো নির্ভর করে। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জেনে নিয়ে তারপর কার্ডের জন্য আবেদন করা উচিত।
পশ্চিমবঙ্গের কোথায় আবেদন করা যাবে?
সরকারি পোর্টাল থেকে শুরু করে সরকারি দপ্তর ইত্যাদি জায়গায় আবেদন পদ্ধতি প্রয়োজনীয় নথি এবং কত টাকা ফ্রি লাগবে সেগুলি যাচাই করে আবেদন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কোন কোন নথি আবেদন করতে লাগবে?
এই কার্ডের জন্য রাজ্য ভেদে প্রয়োজনীয় নথির পরিমাণ কম বেশি হলেও মোটামুটি একই রকম যে সকল নথি গুলি লাগে সেগুলি নিম্নে লিখে দেওয়া হল-
- আধার কার্ড বা অন্য কোন পরিচয় পত্র।
- বসবাসের প্রমাণ।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- আবেদনকারীর মোবাইল নাম্বার।
- আবেদনকারীর বয়সের প্রমাণপত্র।
- আবেদনকারীর রেশন কার্ড ও ভোটার কার্ড।
- যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আবেদনকারীর অবসর গ্রহণের প্রমাণপত্র।
- যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আবেদনকারীর জাতিগত শংসাপত্র ইত্যাদি।
অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন সিনিয়র সিটিজেন কার্ডের জন্য?
Senior Citizen Card অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারি সমাজ কল্যাণ দপ্তরের পোর্টালে wcdsw.wb.gov.in চলে যেতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া: ফর্ম ডাউনলোড করে ব্যক্তিগত তথ্য, বয়স ও ঠিকানার প্রমাণপত্র, প্রয়োজনীয় নথি ইত্যাদি জমা দিতে হবে। নির্ধারিত যে ফি সেটা দিতে হবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর সেটা যাচাই করা হবে।
যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে এবং যদি দেখা যায় তথ্য সমস্ত কিছু সঠিক দেওয়া হয়েছে তাহলে রাজ্যের নির্ধারিত নিয়ম নীতি অনুযায়ী সেই আবেদন কারী ব্যক্তিকে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে।
অফলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন?
যারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তারা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সেবা কেন্দ্র অথবা রাজ্যের নির্দিষ্ট সমাজ কল্যাণ দপ্তরে চলে যাবেন! সেখান থেকে আবেদন পত্র নিয়ে আসবেন এবং সেই আবেদন পত্র প্রয়োজনীয় নথি সহ জমা করতে হবে। এরপর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে আবেদনকারী কার্ড পেয়ে যাবেন।
আবেদন করার আগে Senior Citizen Card আবেদন করার পদ্ধতি, আবেদনের জন্য যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি, আবেদনের ফি ইত্যাদি দেখে নেবেন কারণ রাজ্য ভেদে এগুলি আলাদা হয়।
তাই সরকারি পোর্টালে একবার সমস্ত জিনিস টা দেখে নেওয়া ভালো। তাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে কী কী তথ্য লাগবে এবং কী কী যোগ্যতা লাগবে।
যে প্রশ্নগুলো এই সিনিয়র সিটিজেন কার্ড নিয়ে ওঠে সেগুলি হল নিম্নরূপ;:
কত বছর বয়স হলে সিনিয়র সিটিজেন হবে?
ভারতে ৬০ বছরের বেশি বয়স হলে তাকে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ধরা হয়। তবে যদি কোনো প্রকল্পের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে তাহলে অনেক সময় দেখা যায় যে নির্দিষ্ট প্রকল্পের যোগ্যতার শর্ত এবং বয়স সীমা আলাদা হয়।
Senior Citizen Card থাকলে কি পেনশন পাবেন?
এর উত্তর হলো না।পেনশনের সুবিধা পেতে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে থাকা যোগ্যতা পূরণের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।
Senior Citizen Card থাকলে কি ট্রেনের টিকিট এ ছাড় পাওয়া যাবে?
রেলের বর্তমান নিয়ম নীতি যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। শুধুমাত্র কার্ড দেখে বলা যাবে না।
Senior Citizen Card না থাকলে কি সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে না?
এমনটা কিন্তু নয়। সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে না, এমনটা বলা যেতে পারে না। তবে কিছু কিছু প্রকল্প থাকে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সেই প্রকল্পের সুবিধা থেকে হয়তো বঞ্চিত হতে পারেন।
Senior Citizen Card কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?
অনলাইন বা অফলাইন যেকোনো প্রক্রিয়ায় এই Senior Citizen Card-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। সরকারি পোর্টালে তথ্য যাচাই করে সেই অনুযায়ী কাজ করুন।












