Seva Setu West Bengal: নবান্নের তরফ থেকে সম্প্রতি ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পালনের একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে রাজ্য জুড়ে। খুব শীঘ্রই নবান্নের তরফ থেকে এই অভিযানটি শুরু হতে চলেছে।
এই অভিযানটি আসলে রাজ্যের সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ও সরকারি নানা পরিষেবা প্রদান বিষয়ে জনসাধারণকে জ্ঞাত করার উদ্দেশ্যেই চালু করা হবে। কবে থেকে এই অভিযান চালু করা হবে এবং এই অভিযানের লক্ষ্য কী সেই সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য এই প্রতিবেদনে দেওয়া হল।
কবে থেকে শুরু হবে সেবা সংকল্প অভিযান?
আগামী ১৭ ই সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১০ই অক্টোবর পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।
কোথায় এই সেবা অভিযান কর্মসূচি পালন করা হবে?
মূলত, রাজ্যের একাধিক জায়গায় এই কর্মসূচিগুলি পালন হলেও মহানগরী কলকাতাকেই সমস্ত কর্মসূচি পালনের অন্যতম আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
কারা কারা এই সেবা অভিযান কর্মসূচি পালনের দায়িত্বে রয়েছেন?
এখনও পর্যন্ত জানা গেছে যে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে ব্লক প্রশাসন ও রাজ্যের সকল দফতর এই কর্মসূচি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রী থেকে শিক্ষক সমাজ ও জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পূর্ণতা লাভ করবে।
Read More: সেবা সেতু ক্যাম্প কবে, কোথায় বসবে? কি সুবিধা পাওয়া যাবে?
সেবা সংকল্প অভিযান কেন করা হচ্ছে?
আসলে এমন অনেক সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা রয়েছে যেগুলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ সেভাবে ওয়াকিবহল নন যে কারণে চালু থাকা সেই সমস্ত প্রকল্প এবং পরিষেবাগুলি থেকে বহু পরিবার বঞ্চিত হন।
নবান্নের তরফ থেকে তাই জানানো হয়েছে যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে বলা হবে যাতে তারা সেই সমস্ত প্রকল্পগুলির লাভ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। মূলত এই কর্মসূচিতে দুটি বিষয়ের ওপর নজর রাখা হবে- রাজ্যবাসীরা যাতে সমস্ত সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে পারেন ও বিকশিত ভারত ২০৪৭ কে যাতে বাস্তবায়ন করা যায়।
এই সেবা সংকল্প অভিযানের সূচনা কীভাবে হবে?
আগামী ১৭ ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে ৭ টার সময় ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচি পালনের মধ্যেই এই অভিযানের শুভারম্ভ ঘটবে। সরকারি প্রকল্পে যে সমস্ত রাজ্যবাসীরা সুবিধা লাভ করেছেন, তারাও এই দিন প্রদীপ জ্বালাবেন। এক্ষেত্রে জেলা ও ব্লক প্রশাসন এই কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করার জন্য এবং প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ৫০,০০০ প্রদীপ সংগ্রহ করবেন।
এর পাশাপাশি রাজ্যের যে সকল জায়গার ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে এবং বিভিন্ন কারণে রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সেই সকল জায়গাগুলির জনসাধারণকে নিয়েও প্রদীপ জ্বালানো কর্মসূচি পালন করা হবে।
উপরিউক্ত এই কর্মসূচিতে যেমন জনসাধারণ অংশগ্রহণ করবেন, তেমনি রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষকদের নিয়েও বেশ কিছু কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের স্কুলগুলোতে আগামী ১৭-৩০ সেপ্টেম্বর ‘আমার স্বপ্নের ভারত-চিত্র সেবা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
এই কর্মসূচিতে রাজ্যের স্কুল গুলিতে পড়ুয়াদের নিয়ে চিত্রাঙ্কন , প্রদর্শনী , প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বক্তৃতার মতো একাধিক কার্যক্রম করা হবে যাতে পড়ুয়ারা ছোট থেকেই জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। এর পাশাপাশি ‘নমো সেবা অজানা কাহিনি’ কর্মসূচিতে গান ও নাটকের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন জনহিত প্রকল্পগুলিকে তুলে ধরা হবে।
রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে পুষ্টি , স্বাস্থ্য ও নারী কেন্দ্রিক নানা প্রকল্পে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার জন্য ‘অন্ন মিলন সেবা’ কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে এই কর্মসূচি ১৫-১৭ সেপ্টেম্বর অবধি চলবে।
সাধারণ জনগণ কীভাবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন?
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর অবধি এই যে সেবা কর্মসূচি পালন করা হবে সেখানে সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে শিক্ষক , ছাত্র-ছাত্রীর পাশাপাশি জনসাধারণও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। সরকারি একাধিক কর্মসূচিতে যারা লাভ পেয়েছেন তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা, ছবি, লেখা ও ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ করবেন! আর জেলা প্রশাসন এগুলি সংগ্রহ করবে – এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেবার কাহিনি’।
এছাড়া এই সময় পর্বে পরিবেশ রক্ষার ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্যেও জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা হবে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর অবধি পালন করা হবে ‘সেবায় আমার যোগদান’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণ থেকে শুরু করে পরিবেশের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মত একাধিক জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা হবে।
৬ অক্টোবর ‘সেবার রঙে দেশের সঙ্গে’ কর্মসূচি পালন করা হবে ও এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ ৭ তারিখ হবে ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’ আর ৯ অক্টোবর পালিত হবে ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’।
এছাড়া পালিত হবে ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ -যেখানে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে ক্রীড়া সহ নানা ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে, তুলে ধরা হবে শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতির ক্ষেত্রও।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষেই রাজ্য জুড়ে এই অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এই সেবা অভিযান প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যবাসীরা সরকারের প্রকল্পগুলি সম্পর্কে সম্যকভাবে জানতে পারবেন এবং তারা লাভবান হবেন।












