Travel Insurance: বেড়াতে যাওয়া মানেই আনন্দ। বেড়াতে যাওয়া মানেই সুন্দর সুন্দর স্মৃতি, নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু বেড়াতে গিয়েও অনেক সময় অনেক অনভিপ্রেত মুহূর্তের মুখোমুখি হতে হয়।
অনেক সময় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মানুষের সমস্ত আশা ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়। এরকম পরিস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বা ভ্রমণ বিমায় মানুষকে বাঁচাতে পারে।
Travel Insurance কী?
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স হল এমন বিমা, যার মাধ্যমে ভ্রমণের সময় নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকি র ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা পলিসির শর্তানুযায়ী আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ভ্রমণ করলেই এই ভ্রমণ বীমা পাওয়া যায়।
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সে কোন কোন ক্ষেত্র কভার হয়?
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স এর ক্ষেত্রে কভারেজ সব ক্ষেত্রে এক হয় না! কোম্পানি ও পলিসি অনুযায়ী আলাদা আলাদা হতে পারে। সেজন্য পলিসি কেনার আগে কী কী শর্ত রয়েছে এবং কী কী সুবিধা রয়েছে তা ভালো করে পড়ে নেওয়া উচিত।
ভ্রমণের সময় চিকিৎসার খরচ
বিদেশে বা দেশের কোন শহরে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার খরচ বীমার ক্ষেত্রে কভার হয়।
অনেক ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ভ্রমণের সময় হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, চিকিৎসা, ওষুধ ও নির্দিষ্ট অন্যান্য চিকিৎসা খরচের ক্ষেত্রে কভার দেওয়া হয়।
তবে আগে থেকে কোন রোগ থাকলে, সেই রোগের চিকিৎসা সব সময় কভারেজের মধ্যে পড়ে না। পলিসির শর্ত মেনে কভার হয়।
দুর্ঘটনার কভার
বেড়াতে গিয়ে যদি কোন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হন বা দুর্ঘটনা জনিত কারণে স্থায়ী কোন অক্ষমতা ঘটলে তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া থাকে। তবে সবটাই বিমাকৃত অর্থ ও শর্তের ওপর নির্ভর করে।
যদি লাগেজ হারিয়ে যায়
বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা সবথেকে বড় সমস্যা হচ্ছে লাগেজ হারিয়ে যাওয়া। অনেক সময় দেখা যায় বিমানযাত্রার সময় চেক ইন করা লাগেজ হারিয়ে যায়।
এক্ষেত্রে কিছু ভ্রমণ বীমার ক্ষেত্রে লাগেজ হারিয়ে গেলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ক্ষতিপূরণ করা হয়, আবার লাগেজ দেরি করে পাওয়া গেলেও কিছু পলিসিতে প্রয়োজনীয় পোশাক বা অন্যান্য জিনিস কেনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়।
তবে লাগেজে থাকা প্রত্যেকটি জিনিসের কিন্তু বাজার মূল্য পাওয়া যাবে এমনটা ধরে নেয়া উচিত নয়। পলিসিতে নির্ধারিত সীমা ও শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
পাসপোর্ট যদি হারিয়ে যায়
লাগেজের মত অনেক সময় বিদেশ ভ্রমণ করতে গিয়ে পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নতুন পাসপোর্ট বা জরুরী নথি তৈরি করবার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট খরচের জন্য কভার দেওয়া হয়ে থাকে কিছু বিমা সংস্থার তরফ থেকে।
ফ্লাইট বাতিল বা দেরি হলে
বেড়াতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায় যে ফ্লাইট দীর্ঘ সময় ধরে দেরি করছে বা বাতিল হয়ে গেছে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ট্রিপ বাতিল হলে কিছু কিছু পলিসির ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়া যায়।
তবে নিজের ইচ্ছা মত টিকিট বাতিল করলেই যে এই বীমা পাওয়া যাবে এমনটা কিন্তু নয়! সাধারণত পলিসিতে উল্লেখ করা কারণ ও শর্ত অনুযায়ী টিকিট বাতিল হলে তবেই বীমার টাকা পাওয়া যায়।
ট্রিপ ক্যানসেলেশন
জরুরী কোন পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে যদি আপনার যাত্রা বাতিল হয়ে যায় তাহলে কিছু Travel Insurance আগে থেকে পরিশোধ করা ও ফেরত যোগ্য নয় এমন ভ্রমণের খরচের অংশ কভার করা যেতে পারে।
এক্ষেত্রে পলিসির শর্তে আগে থেকেই উল্লেখ করা থাকে যে কোন কোন কারণ গ্রহণযোগ্য।
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের কত ধরণের পলিসি আছে?
ভ্রমণ বীমা অনুযায়ী বেশ কয়েকটি ভাগে এই বীমা গুলোকে ভাগ করা যায়। যেমন সিঙ্গেল ট্রিপ ইন্স্যুরেন্স, মাল্টি ট্রিপ ইন্স্যুরেন্স, ডোমেস্টিক ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স ও স্টুডেন্ট ট্র্যাভেল ইন্স্যুরেন্স।
সিঙ্গেল ট্রিপ ইন্স্যুরেন্স: একটা নির্দিষ্ট ভ্রমণের জন্য এই ইন্স্যুরেন্সটা নেওয়া হয়। একবারের যাত্রার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার হয়।
মাল্টি ট্রিপ ইন্স্যুরেন্স: যারা বছরে একাধিকবার ভ্রমণ করেন তাদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে একটি পলিসির মধ্যে একাধিক ট্রিপ কভার করে দেওয়া হয়।
ডোমেস্টিক ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স: দেশের মধ্যে ভ্রমণের জন্য নির্দিষ্ট ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই বীমা নেওয়া হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স: বিদেশ ভ্রমণের জন্য এই ভ্রমণ বীমা নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসা, পাসপোর্ট হারানো, লাগেজ, ট্রিপ বাতিলের মত একাধিক ধরনের কভার থাকতে পারে।
স্টুডেন্ট ট্র্যাভেল ইন্স্যুরেন্স: বিদেশে পড়তে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই ধরনের ভ্রমণ বীমা থাকে। এই বীমার ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি পড়াশোনা ও বিদেশে দীর্ঘ সময় থাকার সঙ্গে যুক্ত থাকা কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়।
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করার আগে কী কী লক্ষ্য করবেন?
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স শুধুমাত্র কম প্রিমিয়াম দেখে কেনা উচিত নয়। আপনার ভ্রমণের জন্য কতটা কভার দরকার সেটা প্রথমে দেখতে হবে।
প্রথমে খেয়াল করে দেখুন যে সাম অ্যাসুয়রড কত রয়েছে? বিশেষ করে যখন বিদেশ ভ্রমণের কথা উঠছে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা খরচ বেশি হবেই সেজন্য পর্যাপ্ত মেডিকেল কভার দরকার হবে।
এরপর দেখুন, কোন কোন জিনিস বা ঘটনাকে কভার করা হয়েছে এই বিমার মধ্যে এবং কোন কোন ঘটনা এক্সক্লুসনের আওতায় রয়েছে, কোন কোন পরিস্থিতিতে বীমা টাকা দেবে না সেটাও জানা দরকার।।
পলিসির Deductible থাকলে সেটা অবশ্যই বুঝে নিতে হবে। Deductible হল এমন নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বীমার গ্রাহককে নিজের কাছ থেকেই খরচ করতে হয়।
বিমা করবার আগে জরুরী সময়ে বিমা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা, ক্লেম প্রসেস, হাসপাতালে নেটওয়ার্ক ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিষয়ে আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। আগে থেকে তো সবটা পরিষ্কার থাকলে পরবর্তীতে বাড়তি অসুবিধা বা ঝামেলা হয় না ক্লেমের সময়।
ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে কী কী বাদ হতে পারে?
প্রতিটি পলিসির ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা হলেও কিছু কিছু পরিস্থিতি কভারেজের বাইরে থাকতে পারে। যেমন কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে, কেউ যদি মদ্যপ অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটায়, কিছু আগে থেকে থাকার রোগের চিকিৎসা, নির্দিষ্ট ধরনের কিছু অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ইত্যাদি।
তবে সব পলিসের ক্ষেত্রে কিন্তু নিয়ম এক হবে না তাই অবশ্যই এক্সক্লুশন পড়ে নিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
ভ্রমণ বিমাটা কি বাধ্যতামূলক সবার জন্য?
সব ধরনের ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করানো বাধ্যতামূলক নয়। তবে কিছু দেশ বা নির্দিষ্ট ভিসার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ট্রাভেল মেডিকেল ইন্স্যুরেন্স থাকার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করা হলেও হতে পারে। এজন্য বিদেশ ভ্রমণের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসার নিয়ম দেখে নেওয়া উচিত।
মানুষ যখন বেড়ানোর আনন্দে মশগুল থাকেন তখন অতর্কিতে বিপদ এসে হামলা করে আর সবকিছু তছনছ হয়ে যায়। তাই ভ্রমণ করতে হলে আগেই বিপদের থেকে সরে আসুন, এক্ষেত্রে ভ্রমণ বীমা টিকে আর্থিক ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করার একটি সহজ পরিকল্পনা বলে মনে হয়।
বীমা করার পরে পলিসির কপি, জরুরী যোগাযোগ নাম্বার, মোবাইল নাম্বার, হাসপাতালের বিল, প্রেসক্রিপশন, লাগেজ সংক্রান্ত রিপোর্ট ইত্যাদি চাওয়া হতে পারে। তাই ভ্রমণের সময় এই জরুরি জিনিসগুলো সঙ্গে রাখুন। যাতে কোন সমস্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হলে এগুলি সঙ্গে ই থাকে।
বেড়াতে যাওয়ার আগে যদি ভ্রমণ বীমা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন তাহলে প্রথমেই নিজের বেড়াতে যাওয়ার ধরন গন্তব্য ভ্রমণের সময় কাল ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিবেচনা করুন তারপর একাধিক দুই মাস সংস্থার পলিসির প্রেমিয়াম মেডিকেল কভার লাগেজ কভার ট্রিপ ক্যান্সিলেশনের ক্ষেত্রে সুবিধা, এক্সক্লুশন ও ক্লেম এইসব বিষয়গুলির তুলনা করে দেখুন।
কোথাও পলিসি নেওয়ার আগে বীমা কারীরা তাহলে কী করবেন?
পলিসি নেওয়ার আগে একজন বীমা কারী ভালো করে যাচাই করেন। আপনিও সেই একই কাজ করুন, বীমার শর্তাবলী ভালো করে মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
কোন বিষয় যদি বুঝতে না পারেন তাহলে বিমান সংস্থার কাছে সেই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ও বুঝে নিন। মনে রাখবেন ভ্রমন বিমা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করে না বরং অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতি এলে তখন আর্থিকভাবে সাহায্য করে












