Term Life Insurance: পরিবারের যে ব্যক্তি রোজগার করেন, তার যদি হঠাৎ মৃত্যু হয়, তাহলে মানসিক আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয় আর্থিক সমস্যা। নিত্যদিনকার খরচ থেকে শুরু করে সন্তানের পড়াশোনা, EMI -এই সমস্ত কিছুর বোঝা তখন পরিবারের অন্যান্য মানুষদের ওপর এসে পড়ে।
অনেক সময় দেখা যায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, নাবালক বা বয়স্ক বা রোজগারে অক্ষম হন- সেক্ষেত্রে একজনের অকস্মাৎ মৃত্যু, পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ঝড়ের মত বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
যেকোনো মানুষের মৃত্যুর শোক তো মানসিক হয়! কিন্তু তার সঙ্গে যখন আর্থিক সমস্যা এসে যোগ দেয় তখন, মানসিকভাবে দুর্বল কোন সক্ষম মানুষের পক্ষেও সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে। এইরকম কঠিন পরিস্থিতিতে আর্থিক ঝুঁকি সামলানো যায় একমাত্র টার্ম ইন্সুরেন্স করে।
টার্ম ইন্সুরেন্স কী?
টার্ম ইন্সুরেন্স (Term Insurance) কে মেয়াদী জীবন বীমা (Term Life Insurance) বলা হয়। এটি মূলত একটি প্রোটেকশন প্ল্যান। নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম দিয়ে জীবন বীমার কভার নেওয়া হয়। প্রাইভেসি টার্মের শর্ত অনুযায়ী বীমা করা ব্যক্তির মৃত্যু হলে পলিসির নিয়ম অনুযায়ী নমিনিকে ডেথ বেনিফিট দেওয়া হয়।
আপনার জন্য সেরা ‘হেলথ ইন্স্যুরেন্স’ কোনটা?
সাধারণ টার্ম প্ল্যানের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, একজন পলিসি হোল্ডার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবিত থাকলে কোন ও ম্যাচিউরিটি বেনিফিট দেওয়া হয় না।
Term Life Insurance কীভাবে কাজ করে?
যদি একজন ব্যক্তি ৩০ বছরের জন্য ১ কোটি টাকার একটি টার্ম ইন্সুরেন্স কভার করালেন। পলিসের শর্ত অনুযায়ী তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রিমিয়াম দিলেন।
যদি কোন কারনে এই ৩০ বছর সময় কাল পূর্ণ হওয়ার আগে তার মৃত্যু হয়, তাহলে পলিসির শর্ত অনুযায়ী ইন ফোর্স থাকলে ১ কোটি ডেথ বেনিফিট দেওয়া হয়।
প্রাইভেসি টার্ম শেষ না হওয়া অবধি বীমা কারী ব্যক্তি জীবিত থাকলে সাধারণত পিউর ট্রাম ইন্সুরেন্সে কোন টাকা ফেরত আসে না। এর জন্য এই ইন্সুরেন্সের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম কম রেখে লাইফ কভারের সময়টা বেশি রাখা উচিত।
টার্ম ইন্সুরেন্স কেন করে রাখা উচিত?
প্রথমেই বলেছে উপার্জনকারী ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বা হঠাৎ মৃত্যুতে আসা আর্থিক সমসাকে দূরে সরানোর জন্য টার্ম ইন্সুরেন্স প্রত্যেকটি ব্যক্তির করা উচিত।
যে সকল ব্যক্তির-
- হোম লোন বা অন্যান্য ঋণ আছে,
- যে সকল ব্যক্তির পরিবারের ওপর সংসারের চাপ বা আর্থিক বিভিন্ন রকম দায় রয়েছে,
- যে সকল ব্যক্তির আয়ের ওপর তার বাবা-মা বা অন্যান্য নির্ভরশীল সদস্য রয়েছেন এবং
- যিনি পরিবারের প্রধান উপার্জন কারী
তাদের অবশ্যই এই টার্ম ইন্সুরেন্স করে রাখা উচিত। মূলত প্রত্যেকটি ব্যক্তির জীবনে লাইফ কভার করা এই বীমার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
কত টাকার কভার করবেন?
এই বিষয়টি সাধারণভাবে বলা যায় না। কারণ প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কভারের পরিমাণ আলাদা।
কতগুলি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে কত টাকার কভার হবে-
- একজন ব্যক্তির বর্তমান মাসিক বা বাৎসরিক আয়।
- পরিবারের সদস্য সংখ্যা।
- বিদ্যমান ঋণের অংক বা যদি কোন লোন থাকে তার সংখ্যা।
- সন্তানের সংখ্যা।
- পরিবারে তার ওপর নির্ভরশীল সদস্যদের সংখ্যা।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আনুমানিক ভবিষ্যৎ খরচ।
উপরিউক্ত বিষয়গুলির ওপর বিবেচনা করে পলিসির কভারের টাকার পরিমাণ নির্ভর করে।
ভারতে কী ধরনের টার্ম ইন্সুরেন্স প্ল্যান পাওয়া যায়?
বর্তমানে বিভিন্ন ইন্সুরেন্স কোম্পানি রয়েছে ,তারা একাধিক ধরনের ট্রাম ইন্সুরেন্স প্রোভাইড করে থাকে।
সাধারণ পিউর টার্ম প্ল্যানের পাশাপাশি একাধিক অতিরিক্ত বা রাইডার যুক্ত প্ল্যান রয়েছে।
Pure Term Insurance: এটা সবচেয়ে সহজ টার্ম ইন্সুরেন্স। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পলিসি হোল্ডার যদি মারা যান তাহলে যিনি নমিনি থাকেন তিনি ডেথ বেনিফিট পেয়ে যান। জীবিত থাকলে এক্ষেত্রে ম্যাচুয়রিটি বেনিফিট পাওয়া যায় না।
Return of Premium Term Plan: কিছু টার্ম প্ল্যানে রিটার্ন অফ প্রিমিয়ামের অপশন বা ROP থাকে।
এই ধরনের পলিসির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রাইভেসি টার্ম শেষ হওয়ার পরে বীমা কারীর দেওয়া প্রিমিয়ামের নির্দিষ্ট অংশ বা সম্পূর্ণ অংশ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। তবে এই ধরনের প্ল্যানের প্রিমিয়াম সাধারণ পিউর টার্ম প্ল্যানের থেকে বেশি হয়।
Riders with Term Plans: আসল টার্ম ইন্সুরেন্সের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে কিছু রাইডার নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ বা ডিস অ্যাবিলিটি রিলেটেড রাইডার, ক্রিটিকাল ইলনেস রাইডার ইত্যাদি। তবে সব রকম পলিসিতে সব রকম রাইডার পাওয়া যায় না। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে টার্মস এন্ড কন্ডিশন আলাদা থাকে।
পলিসি কেনার আগে কোন বিষয়গুলি দেখবেন?
পলিসি কেনার আগে কয়েকটি বিষয় নজর রাখতে হবে। শুধুমাত্র প্রিমিয়াম কম দেখেই টার্ম ইন্সুরেন্স কেনা উচিত না। টার্ম ইন্সুরেন্সের ক্ষেত্রে- যে কোনও পলিসি বাছাই করার জন্য কতগুলো জিনিস ভালো করে লক্ষ্য করা উচিত।
কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন?
এটি একটি লাইফ কভার সেই জন্য পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাম অ্যাসুয়রড নির্ধারণ করুন।
পলিসি টার্মের ক্ষেত্রে অনেকেই কম প্রিমিয়াম পড়বে বলে খুব অল্প মেয়াদের পলিসি বেছে নেন , তবে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে , ভবিষ্যতের আর্থিক দায়ের কথা মাথায় রেখে সেটা নেওয়া উচিত।
প্রিমিয়াম পেমেন্ট টার্মটি অবশ্যই খেয়াল করুন। রেগুলার পে, লিমিটেড পে বা সিঙ্গেল পে- নানা ধরনের প্রিমিয়াম পেমেন্ট স্ট্রাকচার থাকতে পারে।
এক্সক্লুসনের শর্তগুলো ভালোমতো দেখে নেবেন। কোন পরিস্থিতিতে ক্লেম পাওয়া যাবে না বা বিশেষ শর্ত প্রযোজ্য রয়েছে এগুলি পলিসি ডকুমেন্টে লেখা থাকে সেটা দেখে নেবেন।
এছাড়া ক্লেম সেটেলমেন্ট প্রসেসের দিকে নজর রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্লেম সেটেলমেন্ট রেশিও দেখে সিদ্ধান্ত নিলে হবে না। ক্লেম প্রসেস, পলিসি টার্মস, এক্সক্লুসিভ ও Insur এর পরিষেবা ও দেখা উচিত।
কয়েকটি বিষয় যা গোপন রাখবেন না-
- টার্ম ইন্সুরেন্স নেওয়ার সময় নিজের স্বাস্থ্য ও রোগ বিষয়ে কিছু গোপন রাখবে না।
- নিজের স্বাস্থ্য, আগে কোনও রোগ থাকলে সেই সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে জানানো দরকার।
- যদি তথ্য গোপন করেন, তাহলে পরবর্তীকালে যখন ক্লেম করবেন , সে ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হবে।
অনেক ক্ষেত্রে ক্লেম বাতিল ও হয়ে যায়।
এজন্যে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করলে বা ইন্সুরেন্স এজেন্ট মারফত টার্ম ইন্সুরেন্স করলে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিকভাবে দিন।
ক্লেম কীভাবে পাওয়া যায়?
পলিসি যিনি করেছেন তার মৃত্যু হলে নমিনি কে ইন্সুরেন্স কোম্পানীর কাছে বীমা কারীর মৃত্যুর সার্টিফিকেট দিতে হবে। সাধারণ ডেথ সার্টিফিকেট ও পলিসি সংক্রান্ত ডকুমেন্ট দিতে হবে এর জন্য। এছাড়া অনান্য প্রয়োজনীয় নথি দিতে হবে।
টার্ম ইন্সুরেন্স কোম্পানী সমস্ত নথি যাচাই করবেন ও সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তখন ডেথ বেনিফিট পাওয়া যাবে! কিছু ইন্সুরেন্স কোম্পানি এখন দ্রুত ক্লেম প্রসেস বা ইমিডিয়েট পে আউটের মত সুবিধা দিচ্ছে।
তবে এগুলি কিছু শর্তের উপর নির্ভরশীল।
ট্যাক্স বেনিফিট কী পাওয়া যাবে?
টার্ম ইন্সুরেন্সের ক্ষেত্রে ইনকাম ট্যাক্সের অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ট্যাক্স বেনিফিট পাওয়া যায়।
তবে ট্যাক্স রুলস পরিবর্তন হয় তাই কোন ব্যক্তি কতটা সুবিধা পাবেন তা ট্যাক্স Regime ও পলিসি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। এজন্যে লাইফ প্রোটেকশনের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে টার্ম ইন্সুরেন্স করুন।
পলিসি নেওয়ার আগে প্রিমিয়াম কম্পেয়ার করুন:
অনলাইনে যদি টার্ম ইন্সুরেন্স করেন তাহলে কোম্পানিগুলোর Quote দেখে নিন। পলিসি ডকুমেন্ট, কভারেজ ও এক্সক্লুসিভ বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
যদি ১ কোটি কভারের প্রিমিয়াম কয়েকজন একসঙ্গে ট্রেন তবু সবার প্রিমিয়াম এক হবে না। বীমা কারী ব্যক্তির বয়স, রোগ, পলিসি টার্ম, সাম অ্যাসুয়রড, প্রিমিয়াম পেমেন্ট টার্ম ও অনান্য
ফ্যাক্টরের উপর প্রিমিয়াম কমা, বাড়া হয়।
অনেক বড় বড় কোম্পানি বর্তমানে ১ কোটি বা তারও বেশি লাইফ কভারের টার্ম প্ল্যানস দিচ্ছে। এইসব ক্ষেত্রে ক্রিটিক্যাল ইলনেস, অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ, ইনক্রিসিং কভার ইত্যাদি অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করছে।
HDFC Life ও ICICI Prudential Life বর্তমান টার্ম ইন্সুরেন্স অফারিং এ এমন বেশ কিছু অপশন রয়েছে।
ক্লেম করার সময় যদি সমস্যা হয় তখন কী করবেন?
ইন্সুরেন্স কোম্পানী গুলোতে ক্লেম বা অন্য কোনো বিষয়ে সমস্যা তৈরি হলে প্রথমেই সেই কোম্পানির Grievance Redressal Officer এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে হবে।
IRDAI এর Bima Bharosa তেও অভিযোগ জানানো যায়। ইন্সুরেন্স কোম্পানির grievance redressal officer কে জানানোর পরও সমস্যা না মিটলে একজন বিমাকারী Bima Bharosaর পোর্টালে জানাতে পারেন নিজের অভিযোগ। সেক্ষেত্রে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
LIC Term Insurance কি এক জিনিস?
LIC হল একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী। এই কোম্পানী একাধিক জীবন বিমা দিয়ে থাকে। সেই সকল জীবন বীমার মধ্যে টার্ম ইন্সুরেন্স ও একটি জীবন বীমা। অর্থাৎ এল আই সি হল সেই কোম্পানী যা বিভিন্ন ধরনের লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান বিক্রি করে আর লাইফ ইন্স্যুরেন্স হল পরিবারের জন্য নেওয়া বড় অঙ্কের লাইফ কভারেজ।
সবশেষে এটাই বলব যে এই টার্ম ইন্স্যুরেন্স আসলে কিন্তু কোনো ইনভেস্টমেন্টের বিকল্প নয়। এটা একটা জীবন বীমা, যা পরিবারের উপার্জন কারীর হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে একটি পরিবারকে আর্থিক দিক থেকে বাঁচাতে পারে।












