Best Health Insurance Plans India: হেলথ ইন্সুরেন্স বা স্বাস্থ্য বীমার বিষয়ে অনেকেই সচেতন নন! হঠাৎ কোন মেডিকেল ইমার্জেন্সি পড়লে, হেলথ ইন্সুরেন্স থাকলে যেকোনো মানুষের চিকিৎসাজনিত চিন্তা অনেকটাই লাঘব হয়। কিন্তু অনেকেই আবার বুঝতে পারেন না-
কোন হেলথ ইন্সুরেন্সটা নিজেদের জন্য করবেন? কোন ইন্সুরেন্স কতটা কভার দেবে? সেটা যেমন সবার পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না, তেমনি বেস্ট ইন্সুরেন্স কোনটা এটা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়।
হেলথ ইন্সুরেন্স কী?
যদি হঠাৎ করে কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন চিকিৎসার খরচ লাখ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এই আর্থিক খরচ কমানোর জন্য আগে থেকে, একটি স্বাস্থ্য বীমা করে রাখতে পারেন সাধারণ মানুষ।
এই স্বাস্থ্য বীমাতে, বীমার টাকা অনুযায়ী একটি প্রিমিয়াম বছরে দিতে হয়, এবং তারপর যদি কেউ কখনো অসুস্থ হন, তাহলে পলিসির শর্ত অনুযায়ী অপারেশন থেকে ওষুধ, একাধিক ব্যয়ের খরচ ইন্সুরেন্স কোম্পানি দেয়।
হেলথ ইন্সুরেন্সের মাধ্যমে কী কী খরচ কভার করা যায়?
হেলথ ইন্সুরেন্স করার পর কেউ যদি অসুস্থ হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন সেক্ষেত্রে- বীমার পলিসি অনুযায়ী অপারেশনের খরচ, ওষুধের খরচ, টেস্টের খরচ, ICU-এর খরচ, অক্সিজেন লাগলে তার খরচ ইত্যাদি কভার হয়।
এক্ষেত্রে একটা কথা বলা ভালো যে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি কোম্পানির পলিসি কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই স্বাস্থ্য বীমা করার আগে প্রত্যেকটি মানুষের উচিত শর্তাবলীগুলো পড়ে নেওয়া!
অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে নির্দিষ্ট দিনের ডাক্তার দেখানো এবং ওষুধ পত্রের খরচা স্বাস্থ্য বীমা অনুযায়ী দেওয়া হয়।
আবার অ্যাম্বুলেন্সে ভর্তি থেকে ছুটি করে হাসপাতাল থেকে ছুটি করিয়ে নেওয়ার পর অবধি, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চিকিৎসার খরচ দেওয়া হয়।
আবার কিছু পলিসি অনুযায়ী হাসপাতালে যখন নেওয়া সম্ভব হয় না তখন রোগীকে বাড়িতে রেখে যে চিকিৎসা করানো হয় তার খরচ পর্যন্ত দেওয়া হয়।
হসপিটালাইজেশন কী- যদি স্বাস্থ্য বীমা করা কোন ব্যক্তির দুর্ঘটনা ঘটে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বা অসুস্থতা জনিত কারণে যদি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকেই বলা হয় হসপিটালাইজেশনে।
২৪ ঘন্টা বা নির্ধারিত সময়ের বেশি হাসপাতালে থাকলে তার খরচা দেওয়া হয়। এটাকেই হসপিটালাইজেশনের খরচ দেওয়া বলা হয়। যেমন কোন ব্যক্তি হয়তো অ্যাপেন্ডিক্সের অপারেশন এর জন্য দু’দিন হাসপাতালে ভর্তি হল তাহলে কোন কোন বীমার ক্ষেত্রে এই খরচা দেওয়া হবে!
Day Care Treatment
এমন কিছু চিকিৎসা আছে যে সকল চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, কিন্তু ২৪ ঘন্টা থাকতে হয় না। যেমন ডায়ালিসিস, কেমো থেরাপি ইত্যাদিপলিসিতে তালিকাভুক্ত চিকিৎসা গুলির ক্ষেত্রে এগুলি কভার থাকে।
Pre-Hospitalization
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের মুহূর্তকে চিকিৎসকরা প্রি হসপিটালাইজেশন বলে। অপারেশনের আগে কেউ হয়তো ডাক্তার দেখিয়েছেন, কেউ এক্সরে করিয়েছেন! এখন এই সমস্ত পরীক্ষার চার্জ গুলো পলিসি মেনে দেওয়া হয় কিনা সেটা দেখতে হবে।
Post-Hospitalization
হাসপাতাল থেকে ছুটির পরপরই চিকিৎসা করা হয় এটাকে বলা হয় পোস্ট হসপিটালাইজেশন। ফলো-আপ ডক্টর ভিজিট, ওষুধ বা কিছু পরীক্ষা কে পোস্ট হসপিটালাইজেশন বলা হচ্ছে।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরের চিকিৎসার খরচ, যেমন- ফলো-আপ ডক্টর ভিজিট, ওষুধ বা কিছু পরীক্ষা। এটিও policy-তে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত covered হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-
Health Insurance-র ক্ষেত্রে একটি কথা সবসময় মনে রাখতে হবে যে, বীমা করলেই যে একশো শতাংশ খরচা পাওয়া যাবে এমনটা নয়। এক্ষেত্রে ওয়েটিং পিরিয়ড, ঘর ভাড়ার খরচা, কো পেমেন্ট ও প্রি এক্সিসিসটিং ডিজিজের মত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভেবে দেখা উচিত।
স্বাস্থ্য বীমা একাধিক কোম্পানির করা যায়! কিন্তু এতগুলো কোম্পানির মধ্যে যে কোম্পানীর স্বাস্থ্য বীমা গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত, সেগুলো নিয়েই আজকে আলোচনা করব!
HDFC ERGO -Optima Secure
এটি একটি বহুল পরিচিত স্বাস্থ্য বীমা। এই বীমার ক্ষেত্রে যেটা হয় সেটা হল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কভারেজের পরিমাণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ আপনি যে টাকার ইন্স্যুরেন্স করছেন, পরবর্তীতে সেটার চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
ধরুন আপনি একটি ১০ লাখ টাকার পলিসি করলেন এই কোম্পানির মাধ্যমে। পরবর্তীতে পলিথিন নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সেই কভারেজ বেড়ে যাবে এবং বছরে বীমা করা ব্যক্তিটি কোনভাবে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তার টাকা লাগে সেটাও ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
তবে এই কোম্পানিতে সাধারণভাবে হসপিটালাইজেশন থেকে শুরু করে ডে কেয়ার ট্রিটমেন্ট ও প্রি অথবা পোস্ট হসপিটালাইজেশন এবং আয়ুষ ট্রিটমেন্টের সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে বীমা করার আগে অবশ্যই দেখে নেবেন ক্যাশলেস পরিষেবা আছে কি না এবং পলিসির শর্ত ও ওয়েটিং পিরিয়ডগুলিও দেখে নেবেন।
ওয়েটিং পিরিয়ড অর্থাৎ কোন ব্যক্তির যদি প্রি এক্সিস্টিং ডিজিজ (সুগার, প্রেশার ,ক্রনিক ডিজিজ) থাকে, তাহলে কত বছরের জন্য লক ইন পিরিয়ড আছে।
লক ইন পিরিয়ড অর্থাৎ আগে থেকে রোগ থাকে যে সকল ব্যক্তিদের তাদের একটা নির্দিষ্ট সময় অবধি বিমার সুবিধা পাওয়া বন্ধ থাকে ও পরবর্তীতে সেই সময়ের পরে আবার সুবিধা পাওয়া যায়, সেই সময়কালকে বলা হয় লক ইন পিরিয়ড
Care Health Insurance, Care Supreme
এই বীমার ক্ষেত্রে আনলিমিটেড অটোমেটিক রিচার্জের সুবিধা টা রয়েছে। এই রিচার্জ সুবিধাটি থাকার জন্য যদি কোন ব্যক্তি একই বছরে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয় তাহলে সে বিশেষভাবে সুবিধা পায়।
কারণ পলিসি অনুযায়ী, কোন ব্যক্তির করা মূল Sum Insured যদি হাসপাতালে ভর্তি কারণে শেষ হয়ে যায় তাহলে সেটা আবার রিচার্জ হয়ে যাবে। অর্থাৎ কমিউলেটিভ বোনাসের মাধ্যমে কভারেজ বাড়তে পারে।
এতে হসপিটালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে , ডে কেয়ার ইউনিট , প্রি ও পোস্ট হসপিটালাইজেশন ইত্যাদি র সুবিধা রয়েছে।
এক্ষেত্রে প্রি হসপিটালাইজেশনে ৬০ দিন ও পোস্ট হসপিটালাইজেশনে ১৮০ দিন অবধি কভারেজের কথা বলা হয়।
Niva Bupa-Re asuure 3.0
এই কোম্পানির স্বাস্থ্য বীমা র ক্ষেত্রে যেটা দেখা যায় সেটা হল আনলিমিটেড সাম ইনসিউরড স্ট্রাকচার। অর্থাৎ এই বীমার ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার ফিক্সড কভারের বদলে প্ল্যানের নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী আনলিমিটেড কভারেজের ব্যবস্থা থাকে।
এই কোম্পানিতেও সাধারণভাবে হসপিটালাইজেশন থেকে শুরু করে ডে কেয়ার ট্রিটমেন্ট ও প্রি অথবা পোস্ট হসপিটালাইজেশন এবং আয়ুষ ট্রিটমেন্ট ইত্যাদির সুবিধা পাওয়া যায়।
পলিসি করার আগে থেকে যদি কোন রোগ থেকে থাকে, তাহলে ৩৬ মাসের একটি ওয়েটিং পিরিয়ড থাকে। মেডিকেলের খরচ টা যদি অনেক বেশি অ্যামাউন্টের হয় তাহলে এই ধরনের বিমা করার আগে আনলিমিটেড কভার প্ল্যান সম্পর্কে জানা উচিত।
Star Health – Star Comprehensive
এই স্বাস্থ্য বীমার ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের ও পরিবার বিশেষের দুই ধরনের কভারেজ হয়। এতেও অন্যান্য সকল বীমা কোম্পানির মত হসপিটালাইজেশন, ডে কেয়ার ট্রিটমেন্ট , প্রি বা পোস্ট হসপিটালাইজেশন ও আয়ুষ ট্রিটমেন্ট ইত্যাদির সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে এই পরিকল্পনার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এখানে মাতৃত্ব ও নবজাতক শিশুর ও কভারেজ পাওয়া যায়। নরমাল ডেলিভারি ও সি সেকশনের খরচ পলিসির নির্দিষ্ট লিমিট অনুযায়ী কভার করা হয়। নবজাতক শিশুর ভ্যাকসিনেশন এর নির্দিষ্ট সুবিধাও এখানে রয়েছে।
প্রি এক্সিস্টিং ডিজিজ এর ওয়েটিং পিরিয়ডটা কমানোর জন্য এক্ষেত্রে একটি উপায় আছে। যেখানে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিয়ে এই ওয়েটিং পিরিয়ড কমানো যায়, সেটাকে পেড বাই ব্যাক কভারেজ বলা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পেড বাই ব্যাক কভারেজ টি কিন্তু অপশনাল।
পরিবারের বীমা বা মাতৃত্বকালীন বীমা বা ওপিডি রিলেটেড কোন সুবিধার দরকার হলে এই প্ল্যানের শর্তগুলো ভালো করে দেখে তারপর নেওয়া উচিত।
ICICI Lombard-Health Shield 360
এই বীমার ক্ষেত্রে আগের বীমাগুলোর মতই একাধিক চিকিৎসা বিষয়ের কভার পাওয়া যায়।
শর্তাবলী –
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যেকোন বীমার ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার কভার থাকলেই বোঝা যায়না, বাস্তবে কত টাকা ক্লেম করা যাবে। এর জন্য শর্তাবলীর অংশগুলো ভালো করে পড়তে হয়।
তাহলে শর্তাবলীর মধ্যে কী কী দেখবেন?
- সর্বোচ্চ কত টাকার সাম ইন্সুয়রড করা যাবে এই বিষয়টি দেখতে হবে।
- আগে থেকে প্রেসার, সুগার ,হার্ট বা ক্রনিক কোনও রোগ থাকলে কতদিন লক ইন পিরিয়ড থাকবে।
- ক্যাশলেস পরিষেবা আছে কিনা
- ICU খরচের লিমিট আছে কিনা
- প্রি এক্সিসটিং ডিজিজের ক্ষেত্রে, কো-পেমেন্ট বিলের কত শতাংশ টাকা নিজেকে দিতে হবে।
- সন্তান হওয়ার খরচের ক্ষেত্রে কোন কোন সুবিধা পাওয়া যাবে? আদৌ কোম্পানি সুবিধা দেবে কিনা।
- কোন কোন চিকিৎসার ক্ষেত্রে, কোম্পানি কোন টাকা দেবে না? অর্থাৎ কোন কোন ক্ষেত্রে নিজেকে খরচ বহন করতে হবে
- রিস্টোরেশন- অর্থাৎ কভারের টাকা শেষ হয়ে গেলে, যদি আবার প্রয়োজন হয় তাহলে কী আবার পাওয়া যাবে?












